বাগেরহাটে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, করোনায় শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষক
১০ মে, ২০২১ ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

  

বাগেরহাটে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, করোনায় শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষক

আহসান টিটু, বাগেরহাট প্রতিনিধি
১৯-০৪-২০২১ ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
বাগেরহাটে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, করোনায় শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষক

বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু করোনা সংকটে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে চাষিরা। শ্রমিক সংকটের কারণে ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে তাদের। কৃষি বিভাগ বলছে, করোনার প্রভাবে শ্রমিক জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণের উপর নির্ভর করতে হবে। ইতোমধ্যে ভর্তুকি মূল্যে কিছু রিপার বিতরণ করা হয়েছে।

অনুকূল আবহাওয়া, সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের তদারকিতে এ বছর বাগেরহাটে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ। বাতাসে দোল খাচ্ছে কাঁচা-পাকা ধানের ছড়া। যা কয়েকদিনের মধ্যেই সোনালি ধানে ভরে যাবে। এমন দৃশ্য কৃষক মনে প্রশান্তি যোগালেও শ্রমিক সংকটে  ধান ঘরে তোলা নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। করোনার সংক্রমণের ভয় ও সারাদেশে লকডাউনের কারণে বেশি মজুরি দিয়েও কোন শ্রমিক পাচ্ছেন না তারা।

বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলায় এ বছর ৫২ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৫০ হেক্টর, ফকিরহাটে ৮ হাজার ২০০ হেক্টর, মোল্লাহাটে ৮ হাজার ৩২০ হেক্টর, রামপালে ৪ হাজার ৭৫ হেক্টর, কচুয়ায় ৬ হাজার ৭০০ হেক্টর, মোরেলগঞ্জে ৫ হাজার ২০ হেক্টর, চিতলমারী ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর, শরণখোলা ৮৫ হেক্টর, মোংলায় ৫ হেক্টর। এরই মধ্যে ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিড) এবং বাকি জমিতে স্থানীয় জাতের ধানের চাষ হয়েছে। এ বছর ২ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিকটন বোরোর আবাদ হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বোরোর এই বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলে দেখা দিচ্ছে শ্রমিক সংকট। আকাশে একটু দেখলেই চাষিদের চিন্তা বেড়ে যাচ্ছে। কিভাবে তারা সোনার ফসল ঘরে তুলবে।

ফকিরহাট উপজেলার অর্গানিক বেতাগা এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে ব্যাপক শ্রমিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। টাকা হলেও কাজের লোক পাওয়া যাচ্ছে। জরুরিভাবে ধান কাটার কৃষিযন্ত্র সরবরাহ না করলে ধান মাঠেই থেকে যাবে।

সদর উপজেলার সুগন্ধি গ্রামের কৃষক প্রণব কুণ্ডু বলেন, এ বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বোরো ধান ফলিয়েছি। ধান ঘরে তোলার জন্য এখন শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এখন কৃষিযন্ত্র ছাড়া কোনও উপায় নেই।

চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর এলাকার কৃষক সুখময় ঘরামী বলেন, ধানের বাম্পার ফলন এখন গলার কাটা হতে বসেছে। একদিকে শ্রমিক সংকট অপরদিকে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চাষিরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে সরকারি সহায়তা জরুরি।

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাছরুল মিল্লাত বলেন, ফকিরহাটে এ বছর বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু হ্যান্ড রিপার বিতরণ শুরু হয়েছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, বোরো ধান রোপণের সঙ্গে জড়িত জেলার প্রায় ১ লাখ কৃষক পরিবার। তাছাড়া কিছু শ্রমিক জেলার বাইরে থেকে এখানে এসে থাকে। শ্রমিক সংকটে যেন ধান কাটা কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় সেজন্য কিছু যন্ত্রপাতি বিতরণ শুরু হয়েছে। এই ধরা অব্যাহত রাখতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। 


আহসান টিটু, বাগেরহাট প্রতিনিধি ১৯-০৪-২০২১ ০৩:৩৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 95 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার (তৃতীয় তলা),
বেগম রোকেয়া স্মরনী, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   [email protected]