আকাশে ওড়ে সালাউদ্দিনের স্বপ্ন
২৬ জানুয়ারী, ২০২১ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

  

আকাশে ওড়ে সালাউদ্দিনের স্বপ্ন

এম.এ.শাকুর, সাব এডিটর
০৫-০১-২০২১ ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
আকাশে ওড়ে সালাউদ্দিনের স্বপ্ন

স্বপ্নহীন কেউ হয় না। সবাই স্বপ্ন দেখে ছোট বা বড়। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, মহাকাশ গবেষক, শিক্ষক বা বৈমানিক হওয়ার মতো স্বপ্নদেখে থাকে মানুষ। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন। নিজের কঠিন এক স্বপ্ন সীমিত আকারে বাস্তবায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন জনি।

স্বপ্ন ছিলো তার বৈমানিক হওয়া। বৈমানিক হতে না পারলেও বানিয়েছেন একটি ছোট বিমান।

সালাউদ্দীন ছোট থেকেই ভাবতো কীভাবে বিমানের পাইলট হতে পারবে। ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈলের বলিদ্বাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা জনির স্বপ্ন থেমে থাকেনি।

কলেজের গণ্ডি পার করে ভর্তি হন গোপালগঞ্জের বশেমুরবিপ্রবির কৃষি বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগে পড়লেও তাকে বিমানের বিভিন্ন বিষয় প্রচুরভাবে টানত। বন্ধুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন বশেমুরবিপ্রবি বিজ্ঞান ক্লাব। সেখানে শুরু করেন ড্রোন বানানোর কাজ।

গবেষণার শুরুর দিকে তিনি একটি ড্রোন তৈরি করেন, যার ওজন ছিল পাঁচ কেজি ও লম্বায় ছিল পাঁচ ফুট। এটি সর্বোচ্চ চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এক হাজার ফুট উচ্চতায় পয়ত্রিশ মিনিট ধরে উঠতে সক্ষম হয়েছিল।

এর ধারাবাহিকতায় স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় বাঁশ, কাঠ, কর্কশিট, ফোমশিট ব্যবহার করে ছোট আকারের ড্রোন বানানোর চেষ্টা করতে থাকেন এবং আড়াই বছরের মাথায় সফলভাবে ড্রোনটি বানাতে পারেন। যার ওজন ১ কেজি।

পরীক্ষামূলকভাবে এই ড্রোনটি পাঁচ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণ রেখার ভিতরে সর্বোচ্চ তিন হাজার ফুট উচ্চতায় এবং একশ কিলোমিটার গতিতে ২০ মিনিট উড্ডয়ন করতে পারে।

প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের সালাউদ্দীন বিমান আবিষ্কার করেছে, এমন সংবাদে খুশি তার জেলার মানুষজন।

সালাউদ্দীন জনি বলেন, 'আমি স্বপ্ন দেখি এমন একটি স্বপ্নের বাংলাদেশের যেখানে দেশেই ছেলেমেয়েরা অত্যাধুনিক বিমান তৈরি করবে এবং বৈশ্বিক বিমানশিল্পে নেতৃত্ব দেবে'।

 

তবে আর্থিক সমস্যা থাকায় প্রজেক্ট নিয়ে তিনি ঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। সহযোগিতা পেলে ভাল কিছু করতে পারবেন। এজন্য সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ও সম্প্রতি চালুকৃত বঙ্গবন্ধু অ্যারোস্পেস অ্যান্ড অ্যারোনোটিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণদের পড়ার সুযোগ করে দিলে আগামীতে যে বিমান তৈরি করা হবে সেগুলো দেশের তরুণরাই তৈরি করতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন, বিমান আকৃতির ড্রোন আবিষ্কারক তরুণ সালাউদ্দীন জনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, কোনো সহযোগিতা ছাড়াই দৃঢ় ও বিস্ময়কর কাজ করতে সক্ষম হয়েছে সালাউদ্দীন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সহায়তা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। সেখান থেকে যদি সালাউদ্দীনকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হয় তাহলে দেশ ও জাতি তার কাছ থেকে অনেক ভালো কিছু পেতে পারে বলে।

মনের ইচ্ছা থাকলে স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন কিছু না। জনির মতো তরুণরা নিজেদের স্বপ্ন পূরণে আরও কঠোর পরিশ্রম করলে দেশ দেখবে এক সোনালী ভবিষ্যত।


এম.এ.শাকুর, সাব এডিটর ০৫-০১-২০২১ ০৯:২২ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 66 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার (তৃতীয় তলা),
বেগম রোকেয়া স্মরনী, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@priyonews24.com