দ্রুত বিশ্ব বাজার দখল করবে ইলেকট্রিক গাড়ি
২৩ জুন, ২০২১ ০৬:৩২ অপরাহ্ন

  

দ্রুত বিশ্ব বাজার দখল করবে ইলেকট্রিক গাড়ি

নিউজরুম এডিটর
০৮-০৬-২০২১ ০৪:৪৮ অপরাহ্ন
দ্রুত বিশ্ব বাজার দখল করবে ইলেকট্রিক গাড়ি

আপনি হয়তো এখনো নিজে ইলেকট্রিক গাড়ি চালাননি কিন্তু আপনার আশেপাশের দু'একজনকে হয়তো চালাতে দেখেছেন। যদি বলা হয় যে, ইলেকট্রিক গাড়ি বাজার দখল করে নেবার আর খুব বেশিদিন বাকি নেই তাহলে আপনার মনে হতে পারে, এটা একটু বেশি সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী হয়ে গেল। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা বোধ হয় তা নয়।

আমরা আসলে মোটরিংয়ের ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আমাদের চোখের সামনে ঘটতে দেখছি যা ১৯১৩ সালে হেনরি ফোর্ডের প্রথম গাড়ি তৈরির প্রোডাকশন লাইন শুরুর পর আর ঘটেনি। যারা বিশ্বব্যাপী মোটরগাড়ি শিল্পের গতিবিধির ওপর নজর রাখেন সেই পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন সময় প্রায় এসে গেছে যখন ইলেকট্রিক গাড়ির বিক্রি খুব দ্রুত গতিতে পেট্রোল আর ডিজেলচালিত গাড়ির বিক্রিকে ছাড়িয়ে যাবে। অন্তত মোটরগাড়ি নির্মাতারা তাই মনে করছেন। যেমন জাগুয়ার কোম্পানি পরিকল্পনা করছে ২০২৫ সাল থেকে তারা শুধু বিদ্যুৎচালিত গাড়িই বিক্রি করবে।

ভলভো বলছে, তারা ২০৩০ সাল থেকে শুধু ইলেকট্রিক গাড়িই বিক্রি করবে এবং সপ্তাহ দেড়েক আগে ব্রিটিশ স্পোর্টসকার নির্মাতা কোম্পানি লোটাস বলছে, তারাও তাই করবে ২০২৮ সাল থেকে। জাগুয়ার বা লোটাসের মত দামী গাড়ি নির্মাতারাই যে শুধু এটা করতে যাচ্ছেন তাই নয়।

জেনারেল মোটর্স বলছে, তারা ২০৩৫ সাল নাগাদ শুধুই ইলেকট্রিক গাড়ি বানাবে। ফোর্ড বলছে, তারা ইউরোপে যত গাড়ি বিক্রি করে ২০৩০ সালের মধ্যে তার সবই হবে বিদ্যুৎচালিত। অপরদিকে ফোক্সওয়াগন বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের বিক্রীত গাড়ির ৭০ শতাংশই হবে ইলেকট্রিক।

এর সাথে ক্রমবর্ধমান পরিবেশ সচেতনতার একটা সম্পর্ক আছে। পৃথিবীর অনেক দেশের সরকারই লক্ষ্যমাত্রা স্থির করছে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ করার। আর তাতে উৎসাহিত হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া।

বলা যায়, ফসিলজাত জ্বালানিচালিত গাড়ি ধীরে ধীরে উঠে যাওয়াটা এখন এক রকম অবধারিত। আর এটা ঘটছে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের জন্যই। ১৯৯০ সালে বা ২০০০ সালের পর প্রথম দশকটিতে ইন্টারনেট যে অবস্থায় ছিল বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার এখন মোটামুটি সেই রকম একটা জায়গাতেই আছে।

সে সময়টায় একটা কম্পিউটার আরেকটা কম্পিউটারের সাথে কথা বলছে এটা ছিল এক নতুন জিনিস। আর এ নিয়ে খুব চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল তখন। জেফ বেজোস তখন অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন। গুগল তখন অল্টাভিস্টা, আস্ক জিভস আর ইয়াহুকে সরিয়ে বাজারের দখল নিয়ে নিচ্ছে।

কিছু কিছু কোম্পানির দাম তখন এমন স্তরে উঠছিল যে তা চোখ উল্টে যাবার মতই। যারা তখনও এর বাইরে রয়ে গেছেন, তাদের কাছে ব্যাপারটা আকর্ষণীয় মনে হলেও ছিল অপ্রাসঙ্গিক। তারা ভাবতেন, আমাদের হাতে তো ফোনই রয়েছে। কম্পিউটার দিয়ে যোগাযোগের কি কোন দরকার আছে?

কিন্তু অন্য সব সফল প্রযুক্তির মতোই ইন্টারনেটের সারা পৃথিবীতে আধিপত্য বিস্তারও কোন সরলরৈখিক পথে ঘটেনি। বরং ইন্টারনেটের বিকাশ হয়েছে বিস্ফোরকভাবে একটা উদ্দাম ঝড়ের মতো। অনেক ব্যবসাকে ধ্বংস করে দিয়েছে ইন্টারনেট। আমরা এতদিন যেভাবে কাজ করতাম তাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

এই যে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া একে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেন ‘এস-কার্ভ’। এটা দেখতে আসলে ইংরেজি এস অক্ষরের মতো। তবে একটু লম্বাটে ধরনের। একটি আবিষ্কারের যাত্রা শুরু হয় ধীর গতিতে। প্রথম দিকে পাগলাটে ধরনের লোক ছাড়া কেউ এতে আগ্রহী হয়না।

বৈদ্যুতিক গাড়িও এখন আছে গ্রাফের এস আকৃতির রেখার একেবারে নিচের দিকে। ইন্টারনেটের গ্রাফের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৬৯ সালের ২৯ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় লস অ্যাঞ্জেলসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল কয়েকশ মাইল দূরের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি কম্পিউটারের।

গবেষকরা একটি কম্পিউটারে লিখেছিলেন এল, ও, এবং জি। তারা লিখতে চেয়েছিলেন লগইন শব্দটা তবে শেষ করতে পারেন নি তার আগেই সিস্টেম ক্র্যাশ করে। এক দশক পরেও মাত্র কয়েকশ’ কম্পিউটার একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।
তবে পরিবর্তনের গতি তখন দ্রুততর হচ্ছিল।

১৯৯০’এর দশকে প্রযুক্তি-ভালোবাসেন এমন লোকেরা ব্যক্তিগত কম্পিউটার কিনতে শুরু করেছিলেন। এরপর বাজার বাড়তে থাকায় কম্পিউটারের দাম কমতে লাগলো ক্রমশ, কম্পিউটারের কর্মক্ষমতারও বিপুল পরিমাণ উন্নতি হলো। এর ফলে আরো বেশি করে লোক ইন্টারনেটে যুক্ত হতে উৎসাহিত হলেন।

এখানে এস-কার্ভের রেখাটি ওপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে, প্রবৃদ্ধি ঘটছে দ্রুতগতিতে। ১৯৯৫ সালের মধ্যে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ১ কোটি ৬০ লাখের মত লোক। কিন্তু ২০০১ সালের মধ্যে ইন্টারনেটে যুক্ত লোকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫১ কোটি ৩০ লাখ।

আর এখন ইন্টারনেটে যুক্ত আছেন ৩শ কোটিরও বেশি মানুষ। এখানে এসে দেখা যাচ্ছে এস-কার্ভের রেখাটি আর উঠছে না, এখন এটা মাটির সাথে সমান্তরাল হয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাচ্ছে, যার মানে হলো ইন্টারনেট চায় এরকম প্রায় সব লোকই এখন অনলাইন হয়ে গেছেন।

স্মার্টফোন, ফটোগ্রাফি, এমনকি এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। প্রথমে ধীরগতির সূচনা, তারপর হঠাৎ বিপুল বৃদ্ধি তার পর বাজারের একটা পরিণত অবস্থা সৃষ্টি হয় আর এতে প্রবৃদ্ধির গতি হয়ে পড়ে ধীর।

মোটরগাড়িতে যে প্রযুক্তির ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয় গত শতাব্দীর সূচনায় এই ইঞ্জিন যখন আবিষ্কৃত হয়েছিল তার জনপ্রিয়তা ও ব্যবহারও বেড়েছিল ঠিক এই এস-কার্ভের মত করেই। ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল বাষ্পীয় ইঞ্জিন এবং ছাপাখানার ক্ষেত্রেও। যেগুলো ছিল সে যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার।

বলা চলে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। বরং ইন্টারনেটের চাইতে এর ইতিহাস অনেক পুরোনো। ১৮৩০-এর দশকে একেবারে প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করেছিলেন স্কটিশ আবিষ্কারক রবার্ট এ্যান্ডারসন। কিন্তু আসলে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তি অভাবনীয় উন্নত হয়েছে গত কয়েক বছরে। এতটাই যে তা এখন প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি সম্ভব হচ্ছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে সবার আগে আসে টেসলা মডেল থ্রির গাড়ির কথা। এই গাড়ি কত দ্রুত চালানো যাবে তা নিয়ে আর ভাবতে হয়না। একবার চার্জ করলে এই গাড়ি প্রায় ৩শ মাইল চলতে পারে। স্থির অবস্থা থেকে ঘন্টায় ৬০ মাইল গতিতে উঠতে এটি সময় নেয় মাত্র ৩.১ সেকেণ্ড।

বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর, একে পরিচালনাকারী কম্পিউটার, চার্জিংয়ের পদ্ধতি এবং গাড়ির ডিজাইন সব ক্ষেত্রেই এখন ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তন অনেকটাই সম্ভব হয়েছে গাড়ির ব্যাটারির প্রযুক্তিতে ঘটে যাওয়া উন্নতির ফলে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশসম্মত জ্বালানি গবেষণা কেন্দ্র আরএমআই-এর মেডেলিন টাইসন বলছেন, এখন প্রতি কিলোওয়াট ব্যাটারি শক্তি উৎপাদনের খরচ হচ্ছে মাত্র ১শ ডলার যা একদশক আগেও ছিল এক হাজার ডলার।

এই পরিবর্তনের ফলেই আসলে বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম পেট্রোল বা ডিজেলচালিত গাড়ির চেয়ে সস্তা হতে শুরু করেছে।বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির এনার্জি ডেন্সিটি অর্থাৎ এতে কি পরিমাণ শক্তি মজুত রাখা যাবে তা ক্রমাগত বাড়ছে এবং এসব ব্যাটারি ক্রমে আরো বেশি দীর্ঘস্থায়ীও হচ্ছে।

গত বছর চীনের ব্যাটারি প্রস্তুতকারক কোম্পানি সি এ টিএলর এমন একটি ব্যাটারি তৈরি করেছে যা দিয়ে একটি গাড়ি দশ লাখ মাইল চলতে পারবে। বিশেষ করে ট্যাক্সি ক্যাব কোম্পানিগুলো দ্রুতগতিতে ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে বহু গাড়ি রাখতে হয়, তারা অনেক বেশি মাইল চলে এবং তারা জ্বালানির ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক গাড়ি দিয়ে বিপুল পরিমাণ খরচ বাঁচাতে পারছে।

সারাবিশ্বে ২০২০ সালে ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে ৩২ লাখ। শতকরা হিসেবে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ৪৩ শতাংশ যদিও করোনামহামারির কারণে সার্বিক ভাবেই এক পঞ্চমাংশ কমে গেছে। পৃথিবীতে যে পরিমাণ গাড়ি বিক্রি হয় এই সংখ্যা তার মাত্র পাঁচ শতাংশ। কিন্তু গ্রাফে দেখা যায় এ সংখ্যা ইতোমধ্যেই এস-কার্ভ রেখার ওপর দিকে উঠতে থাকা অংশে পৌঁছে গেছে।

বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস এক পূর্বাভাসে বলছে, ২০২৫ সাল নাগাদ যত নতুন গাড়ি বিক্রি হবে তার ২০ শতাংশ হবে বৈদ্যুতিক গাড়ি। ২০৩০ সালে এ অনুপাত উঠে যাবে ৪০ শতাংশে। আর ২০৪০ সাল নাগাদ ইউবিএসের হিসেব অনুযায়ী যত নতুন গাড়ি বিক্রি হবে তার প্রায় সবই হবে বৈদ্যুতিক গাড়ি।

গাড়ি নির্মাতারা বলেন, এর একটা কারণ হলো যত বেশি ইলেকট্রিক গাড়ি বানানো হবে, ততই এটা ক্রমশ আরো উন্নত হবে, এবং ততই এটা আরো সস্তা হতে থাকবে। এ কারণেই কম্পিউটার, রান্নাঘরের নানা সরঞ্জাম আর পেট্রোল-ডিজেলচালিত গাড়ি এখন এত সুলভ হয়েছে।

ঠিক এটাই ঘটছে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারির ক্ষেত্রেও। ব্যাটারি যতই উন্নত এবং সস্তা হচ্ছে, ইলেকট্রিক গাড়ির দামও ততই কমছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সিঙ্গুলারিটি ইউনিভার্সিটির জ্বালানিও পরিবেশ বিভাগের প্রধান রামেজ ন্যাম বলছেন, আমরা এখন সেই স্তরের কাছাকাছি এসে গেছি, যখন বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির খরচ, পেট্রোল-ডিজেলচালিত গাড়ির তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক হয়ে যাবে।

তিনি মনে করেন, এই বিন্দুতে পৌঁছে গেলেই ফসিল জ্বালানি-চালিত মোটরযানের খেলা শেষ হয়ে যাবে। টেসলা গাড়ির নির্মাতা স্বঘোষিত ‘টেকনো-কিং’ ইলন মাস্কও তাই বিশ্বাস করেন। তিনি গত মাসেই বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, টেসলা মডেল থ্রি এখন ‘প্রিমিয়াম সেডান’ শ্রেণীতে সর্বাধিক বিক্রীত গাড়িতে পরিণত হয়েছে। আর নতুন যে মডেল ওয়াই টেসলা বাজারে আসবে তা হবে আরো সুলভ এবং যে কোন শ্রেণীর গাড়ির মধ্যে সর্বাধিকি বিক্রীত।

তার কথায়, ‘ক্রেতাদের মধ্যে ইলেকট্রিক গাড়ি সম্পর্কে যে ধারণা ছিল তাতে বিরাট পরিবর্তন এসেছে এবং আমাদের গাড়ির চাহিদা এখন সর্বোত্তম অবস্থায় আছে।’ তবে রাস্তা থেকে পেট্রোল-ডিজেলচালিত গাড়ি বিদায় করতে হলে বৈদ্যুতিক গাড়িকে আরো কিছু কাজ করতে হবে। সহজে এবং সস্তায় যে কোন জায়গায় গাড়ি চার্জ করার সুবিধা থাকলে লোকজন এর প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হবে। এর জন্য সময় এবং বিনিয়োগ দরকার হবে। সেটা অবশ্যই হয়ে যাবে ঠিক যেভাবে এক শতাব্দী আগে পথে পথে গাড়িতে তেল ভরার পেট্রোল পাম্প গড়ে উঠেছিল।

 


নিউজরুম এডিটর ০৮-০৬-২০২১ ০৪:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 70 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার (তৃতীয় তলা),
বেগম রোকেয়া স্মরনী, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   [email protected]